করোনাভাইরাসে বাংলাদেশের প্রভাব

করোনাভাইরাসে বাংলাদেশের প্রভাব

সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস একটি মহামারি রুপ আকার ধারন করছে। এই ভাইরাস সারা বিশ্বে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে, বাংলাদেশেও এই ভাইরাসে আক্রান্ত কম নয়। যেহেতু ভাইরাসটি খুবই মারাত্মক, তাই প্রত্যেককে সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে। এবং সাস্থবিধি মেন কাজ করতে হবে। করোনাভাইরাসে বাংলাদেশের প্রভাব খুবই ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।

করোনা ভাইরাস কি?

করোনা ভাইরাস হচ্ছে এক ধরনের ছোয়াছে রোগ। যা একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করে। এবং তাকে আক্রমণ করে। এই ভাইরাসটি এর আগে পৃথীবিতে দেখা যায়নি। ভাইরাসটি নতুন হওয়ার কারণে কখন পর্যন্ত তার কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি।

তবে অনেক প্রতিষ্ঠানই এর ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যদিও এখন পর্যন্ত তেমন কোন আবিষ্কার হয়নি। তবে বিশ্ব সাস্থ সংস্থা আসা করছে খুব দ্রুত এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে।

করোনাভাইরাসের জন্মভুমি

যদিও ভাইরাসটি খুবই নতুন, কিন্তু খুব কম সময়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের উহান রাজ্য থেকে এই ভাইরাসটি প্রথম চিহ্নিত হয়, তারা বলছে ভাইরাসটি কোন পশুর থেকে ছড়িয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত এর যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আমেরিকার কিছু মিডিয়া বলছে এই ভাইরাস চীন তাদের ল্যাবে চাষ করত। তবে এর তেমন কোন যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ‍যদিও এর জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করেছে অনেকেই।

করোনাভাইরাসে বাংলাদেশের প্রভাব

খুব সহজেই করোনা মানুষের শরীরে প্রবেশ করাতে জনজীবনে নানা ধরনের দূর্ভুগ পোহাতে হইছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হবার কারণে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যে বিত্ত পরিবারের জন্য খুবই করণীয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা মন্দা থাকার কারনে সরকারও তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেনি। ফলে অনেকে হয়েছে কর্মহারা, যারা ব্যবশায়ী তারাও রয়েছে লোকশানের মধ্যে, তবে এই সংকট থেকে বের হতে অনেক সময় লাগবে বলে আসা করছেন বিশ্লেষকরা।

করোনা থেকে রক্ষার উপায়

  • বেশি বেশি সাবান দিয়ে হতি দোয়া
  • সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা
  • মাস্ক ব্যবহার করা
  • হ্যান্ড গ্লাভস্ ব্যবহার করা
  • অযথা বাহিরে না বের হওয়া
  • হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা
  • হাঁচি কাশি দেওয়ার সময় মূখ চেপে রাখা
  • ঘন বসতি এরিয়ে চলা
  • করোনা ভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া ও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা
  • যদি বাহরে যেতে হয় তবে বাসায় প্রবেশ করে সাথে সাথে গোসল করা
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকা

করোনাভাইরাসে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা

বাংলাদেশ খুবই সংকটের মধ্যে দিন পার করছে। জানা নেই এই পরিস্থিতি কতদিন থাকবে। তবে যদি এভাবে চলতে থাকে তাহল খুব দ্রুতই ভয়ভহ রুপ ধারন করবে। এজন্যই আমাদেরকে খুব সতর্কতার সাথে জীবন জাপন করতে হবে। তাছাড়া  এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পারবার  কোন পথ নেই। হাজারো মানুষ কর্মহারা হয়েছে আজ কারো কারো জীবনে এসেছে চরম দূর্যোগ। তবে এই অভিসাপ থেকে মুক্তি না আসলে সারা বিশ্বকেই এই সংকট পোহাতে হবে। করোনাভাইরাসে বাংলাদেশের প্রভাব ধীরে ধীরে খারাপের দিকে যাচেছ। এই সংকট থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগবে।

করোনাভাইরাস আপডেট বাংলাদেশ

১৪/০৬/২০২০ – রবিবার:  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্তের আজ ৯৯ তম দিন।

দেশে ২৪ ঘন্টায় নতুন সনাক্ত হয়েছে – ৩১৪১ জন।

এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট সনাক্ত দাড়ালো – ৮৭৫২০ জন।

সনাক্তের হার – ২১.৬৫ শতাংশ।

এ পর্যন্ত লিঙ্গ ভিত্তিক সনাক্তের হার- পুরুুষ ৭১ শতাংশ এবং নারী ২৯ শতাংশ।

সারাদেশে মোট নমুনা পরিক্ষা করা হয়েছে – ৬০ টি ল্যাবে।

২৪ ঘন্টায় নতুন করে মৃত্যু – ৩২ জন।

নতুন ৩২ জনকে নিয়ে মোট মৃত্যু – ১১৭১ জন।

সনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার – ১.৩৪ শতাংশ।

এ পর্যন্ত লিঙ্গ ভিত্তিক মৃত্যুর হার – পুরুষ ৭৭ শতাংশ এবং নারী ২৩ শতাংশ।

মৃতদের মধ্যে- ২৭ জন পুরুষ এবং ০৫ জন নারী।

দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেছেন ২০ জন ও বাসায় মারা গেছে ১১ জন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছে ০১ জন।

বিভাগ অনুযায়ী মৃতুদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে – ১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে – ১১ জন, রংপুর বিভাগে – ০১ জন, সিলেট বিভাগে – ০২ জন, বরিশাল বিভাগে – ০১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে – ০১ জন।

মোট ৩২ জন মৃতদের মধ্যে -৩ জনের বয়স ৮১-৯০ বছরের মধ্যে, ০২ জনের বয়স ৭১-৮০ বছরের মধ্যে, ০৯ জনের বয়স ৬১-৭০ বছরের মধ্যে, ১০ জনের বয়স ৫১-৬০ বছরের মধ্যে, ০৬ জনের বয়স ৪১-৫০ বছরের মধ্যে,০১ জনের বয়স ৩১-৪০ বছরের মধ্যে,০১ জনের বয়স ২১-৩০ বছরের মধ্যে।

২৪ ঘন্টায় নতুন সুস্থ হয়েছেন – ৯০৩ জন।

নতুন ৯০৩ জন নয়ে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন – ১৮৭৩০ জন।

সনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হরা – ২১.৪০ শতাংশ।

২৪ ঘন্টায় নমুনা সংগ্রহ – ১৪৬৯০ টি।

ঘরে থাকুন নিরাপদ থাকুন

এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরিক্ষা করা হয়েছে- ৫০৪৪৬৫ টি।

সারাদেশে কোয়ারেন্টাইন প্রতিষ্ঠান আছে – ৬২৯ টি।

২৪ ঘন্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মিলে কোয়ারেন্টাইনে এসেছে – ২৭৯২ জন।

নতুন ২৭৯২ জন নিয়ে এ পর্যন্ত হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক মিলে কোয়ারেন্টাইনে এসেছে – ৩২০৪৩৬ জন।

২৪ ঘন্টায় কোয়ারেন্টােইন থেকে ছাড় পেয়েছে – ১৭৬৩ জন।

এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টােইন থেকে মোট ছাড় পেয়েছে – ২৫৮৬২২ জন।

২৪ ঘন্টায় আইসোলেশনে এসেছে – ৭১২ জন।

নতুন ৭১২ জন নিয়ে মোট আইসোলেশনে এসেছে – ১৫২৮১ জন।

২৪ ঘন্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছে – ২৯৪ জন।

এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছে – ৫৫২৩ জন।

দেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে – ১৩২৮৪ টি। তার মধ্যে ঢাকা সিটিতি রয়েছে – ৭২৫০ টি। ঢকার বাহিরের জেলার হাসপাতালে রয়েছে – ৬০৩৪ টি।

দেশে মোট আইসিইউ আছে – ৩৯৯ টি।

ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে – ১০৬ টি।

২৪ ঘন্টায় বিমানবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে – ৫১১ জন। ২৪ ঘন্টায় সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে – ১৫৯ জন।

২৪ ঘন্টায় স্থলবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে – ৩৬৫ জন।

এ পর্যন্ত সকল বন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে – ৭১৮৪৩৯ জন মানুষ।

ঘরে থাকুন সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন, আপনি নিরাপদ আপনার পরিবার নিরাপদ, জাতি নিরাপদ।

Author: admin

1 thought on “করোনাভাইরাসে বাংলাদেশের প্রভাব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *