অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য ১০টি উপায়

অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য ১০টি উপায়

Online income

অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য ১০টি উপায় দেখে নিন এবং আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করুন আজই।

আপনি যদি নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন তাহলে নিশ্চয় ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোসিং এর মাধ্যমে অনলাইনে আয় করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অনলাইনে আয় সে তো মরীচিকা, হয়তো অনেকবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সফল হননি। ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য এই লেখাটি হতে পারে সঠিক দিক নির্দেশনা। তো শুরু করছি অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য ১০টি উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

নীচে অনলাইনে আয় করার ১০টি কার্যকরী উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

১. পিটিসি সাইট থেকে আয় করুন

আপনি যদি অনলাইনে অর্থ উপার্জন করার চেষ্টা করে থাকেন এবং খুব সহজ এবং জামেলা ছাড়া কিছু টাকা ইনকাম করতে চান  এই যেমন ১০০ ডলার বা তার কম তাহলে আপনার জন্য পিটিসি সাইট হতে পারে সর্বোত্তম উপায়।

পিটিসি (PTC) মানে হল (Paid To Click) পেইড টু ক্লিক। মানে আপনি এই সাইডগুলোতে যতগুলো অ্যাডে ক্লিক করবেন তার বীপরিতে আপনি নির্দিষ্ট ডলার পাবেন। পিটিসি সাইটে আপনাকে বিজ্ঞাপনের লিংকে ক্লিক করতে হবে। ১০-৩০ সেকেন্ডের জন্য বিজ্ঞাপন দেখতে হবে। আপনার দেখা প্রতিটি বিজ্ঞাপনের জন্য পিটিসি সাইট আপনারক অর্থ প্রদান করবে।

২. জিপিটি (GPT) সাইট থেকে আয় করুন

আরো বেশি অনলাইনে আয় করতে আপনি যোগ দিতে পারেন জিপিটি সাইটে। জিপিটি সাইটে আপনি ছোট সার্ভে করে, ভিডিও দেখে, গেম খেলে এবং এই ধরনের আরও অনেক কাজ করে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

আমি অনেকগুলো জিপিটি সাইটে কাজ করেছি তাই আপনারাও  সাইটগুলো তে কাজ করতে পারেন। যারা তাদের সদস্যকে সময়মত পেমেন্ট করে। এমন সাইট আপনি গুগলে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।

৩. ক্যাপচা সলভ করে আয়

আপনার যদি হাতে আরও বেশি সময় থাকে তবে আপনি ক্যাপচা সলভার হিসেবে অনলাইনে আরও বেশি ইনকাম করতে পারবেন। আর ক্যাপচা সলভার অনলাইন অর্থ উপার্জন সবচেয়ে সহজ উপায় গুলোর অন্যতম একটি কাজ।

আপনি প্রতি ১০০০ ক্যাপচা সমাধান করে $২ পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন।

আপনি যদি ক্যাপচা সমাধান করতে আগ্রহী হন তবে বিভিন্ন সাইট পেয়ে যাবেন। তার মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি সাইট হল: kolotibablo, Mega Typers, Captcha Typpers, Pro Typers, 2Captcha, এই ক্যাপচা সাইট গুলোতে সাইনআপ করে কাজ শুরু করতে পারেন।

৪. জরিপ বা সার্ভে থেকে ইনকাম করা

কোন প্রতিষ্ঠানের বা ব্র্যান্ডের পণ্যের উপর ৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় নিয়ে সার্ভে বা জরিপ করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। অনলাইনে সার্ভে করে আপনি উপরের যে কোন উপায়ে থেকে আপনি বেশি আয় করতে পারবেন।

সার্ভে করার জন্য আপনাকে উক্ত পন্য বা সেবা সম্পর্কে মতামত দিতে হবে। সার্ভে বা জরিপের ক্ষেত্রে আপনাকে শুধুমাত্র  প্রশ্ন থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী ‍উত্তর নির্বাচন করতে হবে। অতিরিক্ত কিছু লিখতে হবেনা।

জরিপের  দৈর্ঘ্য আপনার প্রোফাইল এবং আপনি যে দেশে বসবাস করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনি প্রতিটি সার্ভের জন্য $ ১ থেকে $২০ ইনকাম করতে পারবেন।

৫. অ্যাডসেন্স এবং অন্যান্য বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক থেকে আয়

যদিও এই তালিকায় আমার সবচেয়ে প্রিয় উপায় এটি কিন্তু আমি এটিকে ৫ নাম্বারে রেখিছি কারন এটি অন্য ৪ টি উপায় থেকে একটু কঠিন এবং গুগল অ্যাডসেন্স থেকে ইনকাম করতে একটু বেশি সময় লাগে।

সারা পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট ওনার তাদের সাইট দিয়ে মাসে মাসে হাজার  থেকে লক্ষ ডলার ইনকাম করছে।

গুগল অ্যাডসেন্স থেকে ইনকাম করতে হলে আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকতে হবে এবং কিছু ট্রিক্স অবলম্বন করে ওয়েবসাইটে ট্র্যাফিক বা ভিজিটর আনতে হবে। তাহলে আপনি গুগল অ্যাডসেন্স বা অন্যান্ন বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

৬. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম

যদি আপনি অনলাইনে টাকা উপার্জনের ক্ষেত্রে খুব সিরিয়াস হয়ে থাকেন এবং যদি পরিশ্রমী আর ধর্য্যশীল মানুষ হন তাহলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আনলিমিটেড ইনকাম করতে পারবেন।

অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় মানুষ এখন বেশি অনলাইনে শপিং করছ। আর এই অনলাইন শপিংয়ের ঊর্ধ্বমুখী বিকাশের কারনেই আগের তুলনায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে উপার্জন করার সুযোগ বাড়ছে।

ফ্লিপকার্ট, আমাজন, ইবে, ক্লিক ব্যাস্ক, আলিবাবা ইত্যাদি শত শত মার্কেট প্লেস আছে যেখানে আপনি অনলাইনে তাদের পন্যের প্রচার করতে পারেন।

ওয়ার্ডে এখন এমনও এফিলিয়েট মার্কেটার আছেন যারা প্রতি মাসে হাজার হাজার নয় লক্ষ লক্ষ ডলার ইনকাম করছেন।

৭. ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আয় করুন

এডসেন্স এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং এর পরে অনলাইনে ইনকামের আরেকটি জনপ্রিয় উপায় হল ফ্রিল্যান্সার।

একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি অস্থায়ী ভাবে পৃথিবীর নানা প্রান্তের বিভিন্ন ছোট/বড় সংস্থাগুলির সাথে কাজ করতে পারেন এবং তাদেরকে সেবা প্রদান করতে পারেন।

আপনি যে কাজে দক্ষ তার উপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্সিং হিসেবে মাসে $৪০০ থেকে $১৫০০+ পর্যন্ত আয় করতে পারবেন।

কন্টেন্ট লেখা, ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক ডিজাইন বা এপস ডেভেলপমেন্ট এবং আরো অনেক ধরনের কাজ করতে পারেন।

ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার জন্য আপনি ইল্যান্সার, ফ্রিল্যান্সার ডট কম, আপ ওয়ার্ক, পিপল পার আওয়ার ইত্যাদি সাইটগুলো তে সাইনআপ করে কাজ শুরু করতে পারেন।

তবে একটা কথা বলি, যে কোন একটি কজে দক্ষ হয়ে তারপর কাজ করা শুরু করে দেন। তাহলে আপনার সফলতা কেউ আটকাতে পারবেনা।

৮. ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ভার্চুয়াল সহকারী হিসাবে ইনকাম করুন

একজন ভার্চুয়াল সহকারী একজন ব্যক্তিগত সহকারীর মতোই, পার্থক্য শুধু যিনি শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও অনলাইনে সহকারী হিসাবে কাজ করেন।

ভার্চুয়াল সহকারী হিসাবে আপনাকে যে কাজগুলো করতে হবে তার ভিতর অন্যতম হল ওয়েবসাইট মনিটরিং করা, পরামর্শদান, কন্টেন্ট লেখা, পাবলিশিং, মার্কেটিং, কোডিংসহ আরও অনেক ধরনের কাজ।

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কাজ করার জন্য অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে। যেমন: HireMyMom, MyTasder, Zertual ইত্যাদি।

এগুলো সাইন-আপ করে আপনি আপনার ক্যারিয়ার শুরু করে দিতে পারেন।

৯. এসইও

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমািইজেশন বা এসইও হল অনলাইনে সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি কাজ। আপনি যদি এসইও কাজ পারেন তবে আপনাকে অনলাইনে টাকা উপার্জন করার বিষয়ে চিন্তা করতে হবে না।

আপনি এসইও কাজ শিখতে চাইলে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা এসইও কাজ শেখায় তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

আর নিজে নিজে শিখতে চাইলে ইউটিউব এবং গুগলে হাজার হাজার লেখা আছে সেগুলো দেখে শিখতে পারেন।

১০ কন্টেন্ট রাইটিং বা লেখালেখি

ইন্টারনেটে অর্থ উপার্জন করার অন্য আরেকটি জনপ্রিয় উপায় হল বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য

কন্টেন্ট লেখা। আপনি বিভিন্ন ব্লগ, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি, পন্য নিয়ে লিখতে পারেন।

বিভিন্ন ধরনের লেখার জন্য কন্টেন্ট রাইটাররা বিভিন্ন পরিমানে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। তবে সাধারনত

কন্টেন্ট রাইটাররা ৫০০ শব্দের কন্টেন্ট এর জন্য ৫ ডলার বা তারও বেশি অর্থ পেয়ে থাকেন।

আপনি কন্টেন্ট লেখার কাজ পেতে Elance, iWriter, WriterBay, TextBroker এর মত সাইটে যেতে পারেন। তবে আপনাকে আগে কাজ শিখতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং এ ক্যারিয়ার

আসলে আপনি যদি কোন একটি বিষয়ে বা একাধিক বিষয়ে এক্সপার্ট হন তাহলে আপনার অনলাইন আয় বা ইনকাম হবেই।

এজন্য জন্য শুধু দরকার সঠিক গাইড লাইন। আর সঠিক পথে আয় করার চেষ্টা।

আপনি অনলাইনে কাজ করার কোন শর্টকার্ট উপায় পাবেন না। আপনাকে ধৈর্য ধরে এক টানা কাজ করে যেতেই হবে।

তহলে ৬ মাসে থেকে ১ বছর পরে দেখবেন আপনি অন্যদের ছড়িয়ে অনেকদুর চলে এসেছেন।

এছাড়াও আরও অনেক উপায় রয়েছে

১. ওয়েব ডিজাইন করে আয়

২. মাইক্রো-ওয়ার্কার হিসাবে আয় করুন

৩. Fiverr এর মাধ্যমে আয়

৪. ইউটিউব থেকে আয়

৫. ই-কমার্স সাইট থেকে ইনকাম

৬. ডোমেইন ট্রেডিং করে অনলাইন ইনকাম

৭. ওয়েবসাইট ফ্লিপিং করে ইনকাম

৮. স্টক এবং ফরেক্স ট্রেডিং করে আয়

৯. অনলাইনে ছবি বিক্রি করে ইনকাম

১০. আপনার স্মার্টফোনের মাধ্যমে টাকা ইনকাম

এতকিছু না ভেবে যদি আপনার ক্যারিয়র অনলাইনে গড়তে চান তাহেলে অযথা সময় নষ্ট না করে যে কোন

একটি কাজের উপর দক্ষতা অর্জন করে কাজ শুরু করে দিতে পারেন।

তাছাড়াও স্যোসাল মিডিয়া থেকে ইনকাম করা যায়। যেমন:

# ফেইসবুক থেকে ইনকাম

# গুগল প্লাস+ থেকে ইনকাম

#আন্সটাগ্রাম থেকে ইনকাম

# টুইটার থেকে ইনকাম

#লিস্কডিন থেকে ইনকাম করতে পারবেন

আপনার যদি ফেইসবুকে ৫০০০ এর উপর ফ্যান সহ কোন ফ্যানপেজ থাকে অথবা অন্য স্যোসাল মিডিয়া

যেমন টুইটার, গুগল প্লাস, ইন্সটাগ্রাম বা লিস্কডিনে নির্দিষ্ট পরিমানে ফলোয়ার থাকে।

তবে আপনি বিভিন্ন সাইট বা ব্র্যান্ডের প্রোমোশন করে ইনকাম করতে পারেন।

তবে বর্তমানে এখন অনেকেই ডাটা এন্ট্রি কাজ করে ডলার আয় করছেন। চাইলে আপনিও তা করতে পারেন।

তো আজকে এখানেই শেষ করছি  অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য ১০টি উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।

সকলে ভালো থাকুন,

সুস্থ থাকুন।

2 thoughts on “অনলাইনে আয় করার নির্ভরযোগ্য ১০টি উপায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *