বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির জন্য করণীয়

বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির জন্য করণীয়
আমাদের প্রতিটা মানুষেরই বিভিন্ন চাহিদা থাকে তারমধ্যে সবাই চায় ব্যাংকে চাকরি করা আর সেটা যদি হয় বাংলাদেশ ব্যাংকে তাহলে তো আর কথাই নেই। আমরা জেনে নিব আজ বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করতে হলে কি কি যোগ্যতা প্রয়োজন এবং কি কি করতে হবে সে সম্পর্কে   আমরা আলোচনা করব। বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির জন্য করণীয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের মৌখিক পরীক্ষাতে একজন প্রার্থীকে সাধারণত চার ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় যথাঃ-

১) ব্যক্তিগত প্রশ্ন
২) একাডেমিক প্রশ্ন
৩) ক্যারিয়ার সম্পর্কিত প্রশ্ন
৪) ব্যাংকিং ও অর্থনীতি সম্পর্কিত প্রশ্ন
মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার ক্ষেত্রে এই চার ধরনের বিষয়ের ওপরে আলাদাভাবে আলোকপাত করলে অপেক্ষাকৃত ভালো প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব হবে।
তো চলুন দেখা যাক এই চার ধরনের প্রশ্ন কেমন হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির জন্য করণীয়

১) ব্যক্তিগত প্রশ্ন:

এই অংশে আপনার সম্পর্কে নানা বিষয় জানতে চাওয়া হয়। যেমন, আপনার নাম কী, নামের অর্থ কী, আপনি কি আপনার নামকে সার্থক করতে পেরেছেন, আপনার নামে বিখ্যাত কেউ আছে কি – তার সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন, পরিবারের কিছু সাধারণ তথ্য, বাসা কোথায়, নিজ জেলার বিখ্যাত কয়েকজনের নাম, তাদের কীর্তি, নিজ জেলার বিখ্যাত কোনো কিছুর নাম ইত্যাদি।
এই অংশে মূলতঃ যাচাই করা হয় আপনি আপনার সম্পর্কে কতোটা জানেন, কিভাবে তা উপস্থাপন করেন।

২) একাডেমিক প্রশ্ন:

এক্ষেত্রে আপনার গ্রাজুয়েশন সাবজেক্ট থেকে কিছু বেসিক প্রশ্ন করা হবে। বোর্ডে চার থেকে পাঁচজন সদস্য থাকবেন।
তারা আপনার সাবজেক্টের নাও হতে পারেন। তাই একাডেমিক প্রশ্নের উত্তর করার ক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যেন বোর্ড আপনার উত্তরটা ভালোভাবে বুঝতে পারে।
এই অংশে আপনাকে অবশ্যই কনফিডেন্স শো করতে হবে।
একাডেমিক প্রশ্নের উত্তর না পারলে বেশ ভালো একটা নম্বর হারাতে হবে।
আবার, এই অংশে ভালো করলে অন্যান্য অংশেও ভালো নম্বর তোলা সহজ হয়।

৩) ক্যারিয়ার সম্পর্কিত প্রশ্ন:

এটা বেশ বিপদজনক অংশ। আপনি কেন বাংলাদেশ ব্যাংকে কাজ করতে ইচ্ছুক, কেন বিসিএস-এ যাচ্ছেন না, প্রাইভেট ব্যাংকগুলো তো অনেক বেশি বেতন দিচ্ছে – ওদিকে কেন যাচ্ছেন না এসব প্রশ্ন করে আপনাকে এলোমেলো করে দেয়ার চেষ্টা করা হতে পারে।
এর বাইরেও আছে নানা প্রশ্ন: আপনি এখন কী করেন, এতোদিন কেন বেকার ছিলেন, বর্তমান চাকরিটা কেন ছেড়ে আসবেন, আমরা কেন আপনাকেই নেবো, আপনার মাঝে এমন কী আছে যা অন্যদের মাঝে নেই, আপনি অন্য প্রার্থীদের তুলনায় কতোটা এবং কিভাবে এগিয়ে, একজন ভালো ব্যাংকার হওয়ার জন্য আপনার মাঝে কী কী গুণাবলি/বৈশিষ্ট্য আছে বলে আপনি মনে করেন, আপনি এখানে কীভাবে কন্ট্রিবিউট করবেন ইত্যাদি।
অধিকাংশ প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর নেই। আপনি যা-ই বলবেন, তা জাস্টিফাই করে দেখাতে হবে।

৪) ব্যাংকিং ও অর্থনীতি সম্পর্কিত প্রশ্ন:

বেশ স্ট্রেইট-ফরওয়ার্ড প্রশ্ন থাকবে এই অংশে। ব্যাংকিং সেক্টর ও অর্থনীতির নানা দিক সম্পর্কে এই অংশে প্রশ্ন থাকবে।
বাজেট, মনিটারি পলিসি, জাতীয় ও বিশ্ব অর্থনীতির নানা দিক, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু, ক্যাপিটাল মার্কেট,
বৈদেশিক বাণিজ্য, বৈদেশিক বিনিময় হার, রিজার্ভ, সিআরআর, এসএলআর, রিপো, মূল্যস্ফীতি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় থেকে প্রশ্ন করা হবে।
আবার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আপনার এপ্রোচটা কেমন হবে বা আপনি কী মনে করেন তা-ও জানতে চাওয়া হতে পরে যেমন- আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি প্রধান সমস্যা হলো কোটি কোটি টাকার খেলাপী ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরির জন্য করণীয়
এই সমস্যা সমাধানে আপনার মতামত কী? কিভাবে এটা একটা যৌক্তিক পর্যায়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন?
ওপরের প্রশ্নগুলো তাদের ধরন অনুযায়ী আলাদা আলাদা ভাবে জিজ্ঞাসা নাও করা হতে পারে। ধরুন শুরুতেই আপনাকে অর্থনীতি থেকে একটি প্রশ্ন করে অপ্রস্তুত করে ফেলা হল, এরপরে আপনার ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রশ্ন করা হল।
তারপরে একাডেমিক প্রশ্ন করে আবার ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা হল।
সুতরাং সব ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর প্রস্তুতি নিয়েই আপনাকে viva board এর সামনে যেতে হবে।

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *